#প্রিয়চিত্রসাথী নিউজ💐
কলকাতা: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলাচ্ছে মানুষের সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যম। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার প্রসার এখন আর ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, সাহিত্য ও দর্শনকে বিশ্বব্যাপী আরও বৃহত্তর শ্রোতা-দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ৯ মে, কবিগুরুর ১৬২তম জন্মবার্ষিকীতে Brainware University শুরু করে ‘Celebrating Tagore’ উদ্যোগ।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্বের অন্তত এক লক্ষ বাংলা ও অবাঙালি পরিবারের কাছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়া। শুধুমাত্র রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গবেষণানির্ভর উপস্থাপনা, ব্লগ, সমালোচনামূলক প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী লেখা। উদ্দেশ্য একটাই—রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ নির্বাচিত ১০০টি রবীন্দ্রসংগীতের অনুবাদ ও পরিবেশনা। গানগুলির ভাষাগত সৌন্দর্য ও ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে বৃহত্তর শ্রোতৃমহলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সেগুলির অনুবাদ করা হয়েছে এবং কণ্ঠ দিয়েছেন Brainware University-এর প্রতিষ্ঠাতা-উপাচার্য (Founder-Chancellor) ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়। ধাপে ধাপে গানগুলি প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর YouTube চ্যানেল ‘Phalguni Mookhopadhayay’-এ। প্রতিটি গানের সঙ্গে যুক্ত থাকছে বিস্তৃত গবেষণালব্ধ তথ্য, অজানা কাহিনি এবং প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা, যা দর্শক-শ্রোতাদের রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। ‘Phalguni Mookhopadhayay’ YouTube চ্যানেলের বর্তমান সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২.২৬ লক্ষেরও বেশি এবং মোট ভিউ ৪.৪৩ কোটিরও বেশি। চ্যানেলে প্রকাশিত ‘Celebrating Tagore’ উদ্যোগের অন্তর্গত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’, ‘আমারও পরানো যাহা চায়’ এবং ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয়’-সহ একাধিক রবীন্দ্রসংগীত ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়। তিনি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। পরবর্তীকালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, কলকাতা থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি হিন্দুস্তান ইউনিলিভার-এ ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হিসেবে যোগ দেন। পরে আনন্দবাজার পত্রিকা (ABP) গোষ্ঠী-তে মার্কেট প্ল্যানার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তিনি Brainware University-এর প্রতিষ্ঠাতা-উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি Brainware Consultancy Private Limited-এর প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং Webguru Infosystems Private Limited-এরও প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে বেঁধে সমাজমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ক্রমশ ‘Celebrating Tagore’ একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে রবীন্দ্রচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে। সংগীত, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ শুধু রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার সংরক্ষণই নয়, বরং তাঁর সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্ম এবং বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে আরও সহজ, প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
0 Comments