#প্রিয়চিত্রসাথী নিউজ
বাংলা গানে সুরকার ও গীতিকার সলিল চৌধুরীর দর্শন ছিল লোকসঙ্গীতের সারল্যের ও পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের জাঁকজমক সম্পন্ন ঐকতানের এক অনন্য মেলবন্ধন।
জয়জয়ন্তীর অধ্যক্ষা শ্রীমতি সুচন্দ্রা ঘোষ চক্রবর্তী, সঙ্গীত প্রভাকর, এলাহাবাদ ও পরীক্ষক, সুরভারতী কলা কেন্দ্র) মনে করেন সুর ও কথা কখনও নির্দিষ্ট কোনো ধারা বা বিশিষ্ট কোনো কবির গান বা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী হিসেবে চিহ্নিত হয় না, বরং যে সুর ও কথা হৃদয়ের আঙিনায় জায়গা করে নেয় - সেটাই সত্যিকারের *সঙ্গীত* হিসেবে আখ্যা পায়।
এই কারণেই বিশ্ব সঙ্গীত দিবসকে উনি বেছে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উদযাপনের জন্য; এবং এই কথাগুলোর মূল্যায়ন একমাত্র ' বিশ্ববরেণ্য গীতিকার ও সুরকার ' শ্রদ্ধেয় শ্রী সলিল চৌধুরীর গানের মধ্যে পাওয়া যায় কারণ একমাত্র ওনার সৃষ্টিতেই একত্রে লোকসঙ্গীত, গণসঙ্গীত, প্রেম ও নিঃসর্গ, সামাজিক চেতনা, আধুনিক, পাশ্চাত্য সঙ্গীত এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক মহামিলন দেখতে পাওয়া যায়।
২১শে জুন দক্ষিণ কলকাতার নিরঞ্জন সদনে জয় জয়ন্তীর তৃতীয় বর্ষের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে তাই ছিল চাঁদের হাট।*অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্বলন করে শুভউদ্বোধনকরেন টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী এবং স্বনামধন্য সংগীত পরিচালক অশোক ভদ্র*
সকলেই এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ভীষণ খুশী বলে জানিয়েছেন।জয় জয়ন্তীর সকল স্টুডেন্টদের অংশগ্রহণ ছিল বেশ স্বাচ্ছন্দ্য ও সুন্দর সুচারু পরিবেশনার দ্বারা।যেখানে নাচ গান নিয়ে মেতে উঠেছিল সবাই।
অংশগ্রহণকারী ছাত্র ছাত্রীরা হলেন সাগরিকা সরকার সাহা, শম্পা বিশ্বাস, সুস্মিতা হালদার, পিংকি মন্ডল, আয়ুস্মিতা সরকার, ঋদ্ধিমা রক্ষিত, শ্রুতি মালিক, বিয়াস হালদার, ইলোরা হালদার, নবদ্রিতা সরকার, ঈশানী মন্ডল, ঈশান হালদার, মহিমা লোহার।
এইবারের অনুষ্ঠানের চমক ছিল পিতা ও পুত্রের (জয়ন্ত ও জ্যোতিশুভ্র চক্রবর্তী) দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন - সলিল চৌধুরীর অন্যতম রচনা - ' ' 'পথ হারাবো বলেই এবার পথে নেমেছি '। একক পরিবেশনায় নজর কেড়েছেন ঈশানী (রানার), রিদ্ধিমা (পা মা গা রে সা), পিংকি (আজ নয় গুনগুন)। যৌথ পরিবেশনায় নজর কাড়ে
' ঝুন ঝুন ময়না ',
' ধিতাং ধিতাং ', ' দুরন্ত ঘূর্ণির '। বিয়াস ও ইলোরার কণ্ঠে ' ঝিলমিল ঝাউয়ের বনে ঝিকিমিকি ' গানটি এক বিশেষ মাত্র লাভ করে। অন্যতম শিল্পী অন্তরা রায় চৌধুরী র বিখ্যাত গান বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে দুই শিশু শিল্পীর গলায় সবার মন জয় করে নেয়।
অনুষ্ঠান শেষ হয় জয়জয়ন্তীর অধ্যক্ষা শ্রীমতি সুচন্দ্রা ঘোষ চক্রবর্তী ও টালিগঞ্জের বিধায়িকা শ্রীমতি পাপিয়া অধিকারীর কণ্ঠে
' বন্দেমাতরম ' ও
' ভারতমাতা কি জয় ' ধ্বনি দিয়ে।
0 Comments