6/recent/ticker-posts

নাইনা মোরের ‘টি কাপস অ্যান্ড টার্নিং পয়েন্টস’-এর সাফল্য উদযাপন

#প্রিয়চিত্রসাথী নিউজ💐
নারী, সাহিত্য ও নেতৃত্বের এক অনুপ্রেরণামূলক উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল কলকাতা। প্রখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার, লেখক ও সমাজকর্মী নাইনা মোর তাঁর বহুল প্রশংসিত বই ‘টি কাপস অ্যান্ড টার্নিং পয়েন্টস’ (প্রকাশক: রূপা পাবলিকেশন্স)-এর সাফল্য উদযাপন করলেন এক বিশেষ সর্বমহিলা পাওয়ার ব্রাঞ্চের মাধ্যমে।

ঘনিষ্ঠ অথচ প্রভাবশালী এই ব্রাঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ২০০-রও বেশি বিশিষ্ট নারী—যার মধ্যে ছিলেন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, উদ্যোগপতি, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট ক্ষেত্রের পেশাদার ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, ফ্যাশন ডিজাইনার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারী নেতৃত্ব। এই সমাবেশ নারী পরিবর্তনকারীদের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা, নেটওয়ার্কিং ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক প্রাণবন্ত মঞ্চ তৈরি করে।

স্বয়ং নাইনা মোরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদযাপন ‘টি কাপস অ্যান্ড টার্নিং পয়েন্টস’ বইটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও পাঠকদের সঙ্গে তার গভীর সংযোগেরই প্রতিফলন। আবেগের সততা ও ভাবনামূলক গল্প বলার ভঙ্গির জন্য বইটি পাঠকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বইটিতে জীবনের সেই নীরব, প্রায়শই উপেক্ষিত মুহূর্তগুলির কথা তুলে ধরা হয়েছে—চায়ের আড্ডার কথোপকথন, থেমে যাওয়া, নীরবতা ও সিদ্ধান্ত—যেগুলি অজান্তেই মানুষের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ব্যক্তিগত বিকাশ ও রূপান্তরকে প্রভাবিত করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাইনা মোর বলেন, “এই বইটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন বদলে দেওয়া মুহূর্তগুলি খুব কমই উচ্চকিত হয়। সেগুলি প্রায়শই আসে নীরবে—সাধারণ কথোপকথন বা নিঃশব্দ বিরতির আড়ালে। ‘টি কাপস অ্যান্ড টার্নিং পয়েন্টস’ আমাদের ধীরে চলার, ভাবার এবং সেই মুহূর্তগুলির অন্তর্নিহিত শক্তিকে চিনে নেওয়ার আমন্ত্রণ।”

তিনবারের টেডএক্স বক্তা এবং মানসিক সুস্থতা ও নারী ক্ষমতায়নের এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নাইনা মোর তাঁর বক্তৃতা, লেখনী ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন—যার মূল বিষয় আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা ও সচেতন জীবনযাপন।

প্রকাশের পর থেকে ‘টি কাপস অ্যান্ড টার্নিং পয়েন্টস’ আইআইটি কানপুর, আইআইএম শিলং, সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি, কলকাতা লিটারারি ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন জাতীয় বইমেলা এবং জার্মানি বুক ফেয়ারের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি বইটি পেয়েছে বিস্তৃত গণমাধ্যম স্বীকৃতি—ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ইন-ফ্লাইট ম্যাগাজিনে একটি বিরল ফিচারসহ, শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্ম ও জনবুদ্ধিজীবীদের প্রশংসা।

কলকাতার এই পাওয়ার ব্রাঞ্চ শুধুমাত্র একটি সফল বইয়ের উদযাপন নয়, বরং নারীর নেতৃত্ব, যৌথ যাত্রা ও সম্মিলিত বিকাশের এক অনন্য উদযাপন হয়ে রইল।

Post a Comment

0 Comments